 | সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, (হে বিশ্ববাসী!) আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব না) তবে তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আমার সম্মানিত আত্মীয়-স্বজন তথা বংশধরগণ উনাদের সাথে সদাচরণ করবে।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি তোমাদের জন্য দুটি নিয়ামত রেখে যাচ্ছি। প্রথম নিয়ামত হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক। যার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর মুবারক। তোমরা কিতাবুল্লাহ শরীফ উনাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরো।” তিনি কিতাবুল্লাহ শরীফ উনার প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন, “দ্বিতীয় নিয়ামত হলো, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম (আওলাদগণ) বংশধরগণ উনারা। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি।” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, “তোমরা আমার আহলে বাইত শরীফ উনাদেরকে মুহব্বত কর আমার মুহব্বতের কারণে।” আমীরুল মু’মিনীন, বাবুল ইলম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম সদস্য। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, একদা ভোর বেলা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা কালো বর্ণের পশমী নকশী কম্বল শরীফ মুবারক জড়িয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম সেখানে আসলেন। তিনি উনাকে কম্বলের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন। উনাকেও প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আসলেন। উনাকেও প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত আলী কাররামাল্লাহু আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন। উনাকে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফখানা তিলাওয়াত মুবারক করলেন- “হে আমার আহলে বাইত শরীফ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেছেন। অর্থাৎ পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! বলার অপেক্ষা রাখেনা, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার উপনাম মুবারক আবূল হাসান (হাসান উনার পিতা) ও আবূ তুরাব (মাটির পিতা)। পিতার নাম মুবারক আবূ ত্বালিব, মাতা উনার নাম মুবারক হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। বিশেষ উপাধি মুবারক আসাদুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার সিংহ), হায়দার (বাঘ), মুরতাদ্বা (সন্তষ্টিপ্রাপ্ত)। তিনি আব্দুল্লাহ নাম মুবারক-এ প্রসিদ্ধ। তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই। কুরাইশ বংশের হাশিমী শাখায় উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ। পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয় দিক থেকে তিনি কোরাইশ বংশোদ্ভূত। বিশুদ্ধ মতে তিনি পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার ১৩ তারিখ পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি একদিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই। অপরদিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কলিজার টুকরা মুবারক, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আহাল বা স্বামী। দ্বিতীয় হিজরীতে উনাদের শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। খিলাফত মুবারক গ্রহণের পূর্বে তিনি হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উছমান যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাদের খিলাফত আমলে তিনি পরামর্শদাতা ছিলেন। হযরত উছমান যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদত শরীফ উনার পর হিজরী ৩৫ সনে খিলাফতের মসনদে সমাসীন হন। প্রায় চার বছর সাড়ে আট মাস যাবৎ তিনি এ পবিত্র দায়িত্ব মুবারক যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার অবদান অপরিসীম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানার সকল পবিত্র জিহাদে অনেক বেশি সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় তিনিই দেন। এ কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ‘হায়দার’ লক্বব মুবারকসহ ‘যুলফিকার’ নামক একখানা তরবারি মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। একমাত্র তাবুক অভিযান ছাড়া সকল পবিত্র জিহাদেই তিনি অংশগ্রহণ করেন। সম্মানিত বদর জিহাদে উনার সাদা পশমী রুমালের জন্য তিনি ছিলেন চিহ্নিত। সম্মানিত বদর জিহাদসহ প্রতিটি পবিত্র জিহাদে তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পতাকাবাহী। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হযরত হারুন আলাইহিস সালাম তিনি যেমন ছিলেন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট তেমনি আপনি হচ্ছেন আমার নিকট। অর্থাৎ খলীফা। তবে আমার পরে কোনো নবী নেই।’’ হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন নবী খান্দানের সুমহান সদস্য। তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি পবিত্র ইলম উনার নগরী, আর হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সেই নগরীর প্রবেশদ্বার।’’ তিনি ছিলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হাফিয, শ্রেষ্ঠ মুফাসসির এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনাকারী রাবী। আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তরীক্বতপন্থী উনাদের ইমাম। অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ উনার ক্বাদিরিয়া, চিশতীয়াসহ মশহুর প্রায় সবগুলো সিলসিলাই উনার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে এবং পৃথিবীর আনাচে-কানাচে উনার সিলসিলায় লক্ষ-কোটি ওলীআল্লাহগণ মানুষকে পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার শিক্ষা মুবারক দিয়েছেন, দিচ্ছেন এবং দিবেন। প্রসঙ্গত অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি যাঁর মাওলা, আমি তাঁর মাওলা। সুবহানাল্লাহ! মূলত তিনি ওই সুমহান অজুদ মুবারক যাঁর শান মুবারক-এ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, সব গাছগুলো যদি কলম হয় এবং সব পানি যদি কালি হয় তবুও উনার ছানা-ছিফত লিখে শেষ করা যাবেনা। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নন, বাকী সবকিছু। সুবহানাল্লাহ! এদিকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার এদেশে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরবিক্রম থেকে বীরশ্রেষ্ঠ, ভাষাশহীদ, শহীদ, বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা হয়। বঙ্গবন্ধু থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ ফেরত দিবস পালন করা হয়। কিন্তু উনারা যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন করে মুসলমান, দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান জনগোষ্ঠী যে চার খলীফা উনাদের কথা মুবারক বিশ্বাস করে মুসলমান উনাদের অন্যতম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ ঘটা করে পালন করা হবেনা, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে, অত্যন্ত জওক-শওকের সাথে পালন করা হবেনা, পাঠ্যক্রমে উনার আলোচনা থাকবেনা; এটা কী করে বরদাশত করা যায়? প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, সরকার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি যথাযথ আদব, মুহব্বত ও মর্যাদা প্রকাশ করছে না। এজন্যই সরকার আজ বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত ও ভয়ানক বিপদগ্রস্ত। সরকারের পাশাপাশি সাধারণেরও এ বিষয়ে কর্তব্য বিস্তর। বিশেষত বর্তমান যামানায় হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ক্বায়িম-মাক্বাম কে? উনি যে কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, জামিউল আলক্বাব, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এ চরম সত্য কথা আজ সাধারণকে বড়ই আগ্রহ উদ্দীপনা এবং আদব-জজবার সাথে উপলব্ধি করতে হবে। সরকারসহ সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই বর্তমান ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণ লাভ করা যাবে। মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)
|